"বাংলাদেশের জেলাসমূহের ইতিহাস_ [ শরিয়তপুর জেলা_৩ ]"
- পাকিস্তান আমল
পূর্ব বাংলা
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট অঞ্চল হওয়ায় তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রাধান্য এ প্রদেশে বেশী দেখা যায়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগষ্ট তৎকালীন ভারতের এ অঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে মুসলমানদের
জন্য গঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম পাকিস্তান। পূর্ব
বঙ্গ পরিণত হয় পূর্ব পাকিস্তানে। ১৯৪৭ সালর ১৪ ই
আগষ্ট হতে ১৯৭১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত শরীয়তপুর জেলা সহ এ প্রদেশ ছিল পাকিস্তানেরই একটি অংশ।
- বাংলাদেশ আমল
ঘটনার
প্রবাহে পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চল পূর্বাঞ্চলের উপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে শোষণ আরম্ভ করে। বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের জনগণের সাথে সাথে শরীয়তপুরের জনগণও সেই শোষণ মুক্তির সংগ্রামে
অংশ নেয়। বহু মায়ের বুক খালি করে, বহু ভগ্নির ত্যাগের ফলে এবং লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের ফসল স্বরুপ পায় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্ত স্বাধীন
বাংলাদেশের জন্ম হয় ।
প্রশাসনিক সুবিধার্থে মাদারীপুরের
বৃহৎ পূর্বাঞ্চল নিয়ে একটি পৃথক মহকুমা গঠনের
প্রয়াস ১৯১২ সাল হতেই নেয়া হয়েছিল। এর পরে পাকিস্তান সৃষ্টিও বাংলাদেশের অভ্যুদয় নতুন প্রশাসনিক দৃষ্টি ভঙ্গি গঠন করতে সহায়তা করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়
মাদারীপুরের পূর্বঞ্চল নিয়ে একটি
নতুন মহকুমা গঠিত হবে। বিষয় নির্বাচনী কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক, বৃটিশ বিরোধী তথা ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে এর নাম করণ হয় শরীয়তপুর এবং এর সদর দপ্তরের জন্য পালং থানা অঞ্চলকে বেছে নেয়া হয়। ১৯৭৭
সালের ১০ ই আগষ্ট রেডিওতে সরকার কর্তৃক মহকুমা গঠনের
ঘোষণা দেয়া হয় এবং ঐ বছরের ৩রা নভেম্বর এ
মহকুমার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপদেষ্টা জনাব আবদুল মোমেন খান। প্রথম মহকুমা প্রশাসক ছিলেন জনাব
আমিনুর রহমান। এর পর রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোঃ এরশাদ সরকারের
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে শরীয়তপুর
মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। ৭ই মার্চ ১৯৮৩ সালে জেলা গঠনের ঘোষণা হয়। ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ শরীয়তপুর জেলার
শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন তথ্য মন্ত্রী জনাব নাজিম
উদ্দিন হাশিম। বর্তমান শরীয়তপুর বাংলাদেশের
একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন