রবিবার, ২০ মার্চ, ২০১৬

বাংলাদেশের জেলা সমূহের ইতিহাস_২৫ [ কক্সবাজার জেলা ]



কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

ভৌগোলিক সীমানা

কক্সবাজারের মোট আয়তন ২৪৯১.৮৬ কি.মি। এ জেলা উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বান্দরবন জেলা, মায়ানমারের আরাকান এবং নাফ নদী ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। উপকুলবর্তি এলাকা হওয়ার এ জেলা প্রায়ই সামুদ্রিক ঝড়, জলচ্ছাস, হারিকেন, স্লাইকোন ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত হয়।
প্রধান দ্বীপঃ
মহেশখালি, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহ পরি, সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ (নারিকেল জিঞ্জিরা), মাতাবাড়ি
প্রধান বনঃ
ফুলছড়ি রেঞ্জ, ভুমারিয়া-ঘোনা রেঞ্জ, মেহের-ঘোনা রেঞ্জ, বাক খালি রেঞ্জ

কক্সবাজারের সমূদ্র সৈকতে সূর্যাস্ত
কক্স-বাজারে পৃথিবীর দীর্ঘতম (১১১ কি.মি দীর্ঘ) সমুদ্র সৈকত রয়েছে।

উপজেলা সমূহ

  • উখিয়া উপজেলা
  • কক্সবাজার সদর উপজেলা
  • কুতুবদিয়া উপজেলা
  • চকোরিয়া উপজেলা
  • টেকনাফ উপজেলা
  • মহেশখালী উপজেলা
  • রামু উপজেলা
  • পেকুয়া উপজেলা

নদনদী

প্রধান নদীঃ মাতামুহুরি, বাকখালি, ঈদগাঁও নদী, রেজু খাল, নাফ, মহেশখালি প্রণালী কুতুবদিয়া প্রণালী

পর্যটন

কক্সবাজার বাংলাদেশের একটি বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্রএখানে ৬ টি বড় হোটেল, ৮০ টি অন্যান্য হোটেল আছে। এখানে একটি ঝিনুক মার্কেট ও একটি বার্মিজ মার্কেট আছে যেখানে মায়ানমার, থাইল্যান্ড চীনের সামগ্রি পাওয়া যায়।

ইতিহাস

আরব ব্যবসায়ী ও ধর্ম প্রচারকগন ৮ম শতকে চট্টগ্রাম আকিব বন্দরে আগমন করেন। এই দুই বন্দরের মধ্যবর্তি হওয়ায় কক্সবাজার এলাকা আরবদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে। নবম শতাব্দীতে কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম হরিকেলার রাজা কান্তিদেব দ্বারা শাসিত হত। ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকান রাজা সুলাত ইঙ্গ চন্দ্র চট্টগ্রাম দখল করে নেবার পর থেকে কক্সবাজার আরাকান রাজ্যের অংশ। ১৬৬৬ সালে মুঘলরা চট্টগ্রাম দখল করে নেয়। মুঘল সেনাপতি বুজুর্গ ওমেদ খান কর্ণফুলির দক্ষিণের মাঘ কেল্লা দখল করে নেন এবং আরাকানবাসী রামু কেল্লাতে আশ্রয় নেয়, যা কিনা পরে মুঘলরা হঠাৎ আক্রমণ করে দখল করে নেয়। কক্সবাজারে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চাষীদের মাঝে জমি বিতরণের এক উদারনীতি পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে চট্টগ্রাম ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চল হতে মানুষ এই এলাকায় আসতে থাকে। বার্মা রাজ বোধাপায়া (১৭৮২-১৮১৯) ১৭৮৪ সালে আরাকান দখল করে নেন। প্রায় ১৩ হাজার আরাকানি বার্মারাজের হাত থেকে বাঁচার জন্য ১৭৯৯ সালে কক্সবাজার থেকে পালিয়ে যায়। এদের পুনর্বাসন করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একজন হিরাম কক্সকে নিয়োগ দেয়। প্রতি পরিবারকে ২.৪ একর জমি এবং ছয় মাসের খাদ্যসামগ্রি প্রদান করা হয়েছিল। এ সময় ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স রাখাইন অধ্যুষিত এলাকায় একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। যা কক্স সাহেবের বাজার পরিচিত হয় স্থানীয়দের মাঝে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তার অবদানের জন্য কক্স-বাজার নামক একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কক্স-বাজার থেকেই কক্সবাজার জেলার নামের উৎপত্তি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হিরাম কক্স ১৭৯৯ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

 

চিত্তাকর্ষক স্থান


হিমছড়ির পাহাড় থেকে দেখা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
হিমছড়ি, আদিনাথ মন্দির (মহেশখালী উপজেলা), শাহ ওমরের সমাধি (চকোরিয়া উপজেলা), মানিকপুরেরে ফজল কুকের সাতগম্বুজ মসজিদ, হাসের দীঘি, বীর কামলা দীঘি (কুতুবদিয়া উপজেলা), মাথিন কূপ (টেকনাফ উপজেলা), কালারমা মসজিদ, কুতুব আউলিয়ার সমাধি, রামকট হিন্দু মন্দির, রামকোট বুদ্ধ খেয়াং, লামাপাড়া বুদ্ধ খেয়াং (উখিয়া উপজেলা), পাটাবাড়ি বুদ্ধ খেয়াং, কুতুপালাং বুদ্ধ মন্দির, আগভামেধা বুদ্ধ খেয়াং, বুদ্ধের প্যাগোডা, এক গম্বুজ মসজিদ।
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিক স্বরুপ এ জেলায় ৩ টি শহিদ মিনার ও ১ টি গনহত্যার কেন্দ্র আছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন